বিয়ে মানে….

0
2963
Image Source : Google

ওঃ বিয়ে বিয়ে ফিলিংস টা একটা আলাদাই ব্যাপার। যার বিয়ে একমাত্র সেই শুধু বোঝে…বাড়িতে সবার আলোচনা তখন শুধু তোমার বিয়েকে ঘিরে পাশাপাশি থাকে বিয়ের কার্ড ছাপানোর ব্যস্ততা… কার্ডে তোর আমার নাম পাশাপাশি দেখা… রোজ বাবা মার সাথে শপিং-এ যাওয়া, গয়না কিনতে যাওয়া। বাবা তাড়া দিয়ে বলবে নে রে তাড়াতাড়ি কর, তোদের পছন্দ আর হয় না… গয়না কিনতে গিয়ে মা বলবে- “হ্যাঁ রে আর কি নিবি?” -“না মা আর কিছু নেব না!” পাশ থেকে বৌদিভাই বলে উঠবে- নাও গো এই সময় নিয়ে নাও, এরকম চান্স একবারই আসে ভাই,” বিয়ের তিনটে দিন আগের থেকে বাড়িতে আত্মীয় কুটুম একে একে আসতে থাকা… তাদের সবার মুখে শুধু বর বৌকে ঘিরে আলোচনা, কখনো কখনো সারা বিয়ে বাড়ির ব্যাস্ততার মাঝেও তোকে সময় বের করে আড়ালে গিয়ে কল করে নেওয়া.. সেই কল করা দেখে ফেলে আত্মীয় সজনদের রসিকতা- “বাব্বা আজ বাদে কাল বিয়ে এদের যে আর তর সইছে না গো…” আগামীকাল বিয়ে আর আজ সারারাত জেগে ফোনে একই ভাবে কথপোকথন। ভোরে আত্মীয়সজন জোর করে ঘুম থেকে টেনে তোলা- “অ্যাই চল চল ওঠ ঘুম থেকে, নিশি জল আনতে যেতে হবে…” তারপর এই ঠাণ্ডায় হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে স্নান… বাড়ি ফিরেই দই-চিড়ে খাওয়া…

সকাল হতে না হতেই সানাই এর সুর শুরু… তারপর নান্নিমুখ,খিড়রান্না… বাড়িময় তুমুল ব্যস্ততা, হৈ হুল্লোড়… “নে রে বাবা তাড়াতাড়ি কর ওদিকে গায়ে হলুদের সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে…” গায়ে হলুদের সময় চারিপাশে আমার সাথে সাথে বাকিদেরও হলুদ মেখে নেওয়ার ভীড়… এরই পাশাপাশি তোকে কল করে নেওয়া, ধরা পড়ে আবার সেই সকলের রসিকতা হাসাহাসি আমায় ঘিরে… বিকেলের মধ্যে বিয়ের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়া…ও বাড়িতে পৌঁছোনোর সাথে সাথে উৎসব শুরু…সারা বাড়ি বরকে ঘিরে উত্তেজনা… আশে পাশে অসংখ্য শালিদের ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া… সকলের ভীড়ে একজন অধির অপেক্ষায় লাল বেনারসি আর চন্দনে সে সেজে শুধু আমারই জন্য… সারাদিন উপোষ থেকে বিয়ে করতে বসা… মালাবদলের সময় তোর হাতে হাত ঠেকে যাওয়া আলাদাই এক অনুভূতি… শুভদৃষ্টির সময় সেই অপূর্ব দুনয়নের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকা,যে নয়ন লজ্জা রাঙা,যা শুধু তারই জন্য… আত্মীয় কুটুমের বিদ্রুপ রসিকতা- “কি রে এবার চোখ নামা, আর কত দেখবি নির্লজ্য…”এরপর অগ্নীকে সাক্ষী রেখে সিঁদুর দান করে সারাজীবনের মতন তোকে নিজের করে নেওয়া… বিয়ে করে ওঠার পর দেখা জুতো নেই, শালিদের 10,001 টাকার আবেদন… গোল করে ঘিরে বসে রীতিমতন হুমকি… “১০,০০১ টাকা দাও জামাইবাবু নাহলে খালি পায়ে বাড়ি যেতে হবে।” কোনোরকমে টাকা দিয়ে সে যাত্রায় উদ্ধার পাওয়া।

পরদিন সেই কষ্টকর মুহূর্ত… কনে বিদায়ের সময় কান্নাকাটির রোল… :'( যার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি পৃথিবীর সব দুখ সইতে পারি সেই দুচোখে জল সইবো কেমন করে… এই ভেবে স্ত্রীর সাথে সাথে আমারও ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলা… সারা শ্বশুর বাড়ির লোক স্তম্ভিত… 😮 স্ত্রী কান্না ভুলে দাঁত কেলিয়ে হাসছে… আসলে এই সমস্ত প্ল্যানিংটাই ছিল ওকে হাসানোর জন্য… যার জীবনের সুখের দায়িত্ব নিয়েছি অগ্নিকে সাক্ষী রেখে তাকে কাঁদতে দিই কেমন করে? আজ হিসেব মতন কালরাত্রী কিন্তু ৯৯% ফুলসজ্জা ওকে নিয়ে গাড়িতে আসতে আসতেই সেরে ফেলা আদরে আদরে… ড্রাইভারকে সতর্ক বার্তা- “গাড়ি 20 kmph বেগে চালাও যাতে 3 ঘন্টার রাস্তা ছয় ঘন্টা লাগে, আর পিছনে কি চলছে ঘার ঘুরিয়ে দেখবে না…” বাড়ি পৌঁছে সেই কালরাত্রীর কষ্ট… প্রিয় যে মানুষটার জন্য এতো অপেক্ষা সেই মানুষটা আজ আমার ঘরে তবু আমার সামনে না… এক ছাদের তলায় আছি, ওর গলার আওয়াজও পাচ্ছি তবে দেখতে পাচ্ছি না, স্পর্শ করতে পারছি না… এ এক অবিস্মরণীয় যন্ত্রনা… এরই মাঝে কিছু ডেপো বন্ধুর আগমন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে- “কিরে ভাই কাল কি কি করবি কেমন করে করবি?” :p সারাটা রাত একই ঘরে থেকেও স্ত্রীর সাথে চ্যাটিং করে কাটিয়ে দেওয়া… পরদিন সকালে স্ত্রীর দেখা পাওয়া- আমার ঘরে এসে সে বলে ওঠে- “তোমায় নিচে সবাই ডাকছে… ডেকরেটর ক্যাটারারের লোকেরা এসেছেন…” বলে চলেই যাচ্ছিল সেই মুহূর্তে তার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান… ব্যাস আর যায় কোথা… ধপ করে ও পড়ল সোজা আমার বুকে… মুখের উপর পড়া এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে কিশোর স্টাইলে গেয়ে ওঠা- “Ek ajnabi… hasina se… youn mulakat ho gayi… phir kya huya… ye na pucho… kuch aisi baat ho gayi…”

“ছাড়ো প্লিজ্… কেউ এসে যাবে…”
“না কেউ আসবে না আমাদের baby ছাড়া…”
“ধ্যাৎ! অসভ্য…” বলে আমায় ঠেলে সরিয়ে এক ছুটে ঘর থেকে তার বেড়িয়ে যাওয়া…”
ফুলসজ্জায় করতে চাই… কি? কিছুই না শুধুই বন্ধুত্ব।
কারণ যত গভীর সম্পর্কই হোক যাদের জীবনের ফুলসজ্জার রাত বন্ধুত্বের তাদের জীবনের প্রতিটা রাতই ফুলসজ্জা।

কেমন লাগলো অবশ্যই জানান